বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজের মৌলবাদী চেতনা থেকে সারাদেশে ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পরিবর্তনের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো আবার বৈধভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পায়। ধর্মের এসব বানরদের উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এরপর প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াও জঙ্গিরানী হিসেবে জোট সরকারের শাসনামলে বেশ সমাদৃত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী, ধর্ষক মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আজম, কামারুজ্জামান, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, কাদের মোল্লাদের সঙ্গে শুধু মানসিক নয়; মৌলবাদের শারীরিক যৌনতায় লিপ্ত হন। ৭১-এর ধর্ষকদের সঙ্গে অবৈধ যৌনকর্মের ফসল হিসেবে রাজনীতিতে উত্থান ঘটে ধর্মের যৌনকর্মী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির কালো পুত্র তারেক রহমানের।
আজকের বাংলাদেশ মৌলবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। জামায়াতের মতো প্রতিক্রিয়াশীল একটি মৌলবাদী রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতার প্যারালালে থাকার—এর নির্যাস শরিয়াহ আইনের দাবি তোলা মাদ্রাসার লিল্লাখোর জঙ্গিগোষ্ঠীর মধ্যে উন্মাদনা যুগিয়েছে।
সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতাও জিহাদিদের হাতে চলে গেছে। সারাদেশে মাদ্রাসাগুলোতে বেড়েছে শিশু বলাৎকারের ঘটনা, যেখানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে এসব জিহাদি গোষ্ঠীর দ্বারা। শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই ও শরিয়াহ আইনের বয়ানে এমন অপরাধ বিচারের মুখোমুখি হয় না কখনোই।
ভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও যৌন পরিচয় এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের মানুষদের হত্যাযজ্ঞ করে তোলা হচ্ছে। যেখানে ধর্মের অন্ধত্ব, শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যা, ইসলামী উগ্রবাদ ও চরমপন্থা রাষ্ট্রে নাগরিকের জীবনকে সংকুচিত করেছে। লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার।
একে গণতন্ত্র বলা যায় না। এর নাম রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতা। যে সাম্প্রদায়িকতা বিএনপি ও জামায়াতের মতো জঙ্গিবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত দুটো বিপথগামী রাজনৈতিক জঙ্গিদের যৌথ মহড়ার ফলাফল। এ দেশকে জিহাদিস্তান বানানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল সকল চরমপন্থী ও জিহাদি গোষ্ঠী।
আওয়ামী লীগ থাকলেই দেশের মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার নামে নাবালক শিশুদের বলাৎকার করা যায় না, নারী শিশুদের ধর্ষণের জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়; ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদের মত বিয়ের নামে শিশু ধর্ষণ করা যায় না। নবী মুহাম্মদ যেমন প্রাগৈতিহাসিক এপস্টিনব, শিশু আয়েশাকে (৬ বছর বয়স) বিয়ের নামে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে। যুদ্ধ ও জিহাদের নামে যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও গণিমতের মাল হিসেবে ধর্ষণ করতো, দাসী হিসেবে বিক্রি করতো। নবী মোহাম্মদ যেমন নারী লিপ্সু ছিলেন, ১১ স্ত্রী আর ২ যৌন দাসী নিয়ে এক উন্মাদনাময় ইসলামের কানুন তাঁর মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও জিহাদি উম্মতদের দেখিয়ে গেছেন। এমন উন্মাদনা থেকেই এসব ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলো দেশে শরিয়াহ আইন চায়। যাতে জান্নাতে ৭২ হুরের সঙ্গে অনন্তকালের যৌন সঙ্গমের পাশাপাশি দুনিয়াকেও হেরেমখানায় পরিণত করা যায়।
এ দেশকে জিহাদিস্তান বানানোর জন্যই কি আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত পতন ঘটানো হয়েছিল সম্পূর্ণ জঙ্গি কায়দায় সারাদেশে ১৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে?
গণতন্ত্রের নামে ধর্মের যৌনকর্মী প্রয়াত খালেদার কু-পুত্র তারেক আর জঙ্গিগোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামীর সন্ধিতে গণতন্ত্রের নামে কি সাম্প্রদায়িক শাসন চলবে?
রাষ্ট্রকে অবশ্যই সংবিধান, সমতা ও ন্যায়বিচারের নীতি মানতে হবে। এ রাষ্ট্র সকল মানুষের। বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদী সকলের।
