মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ও যৌন নিপীড়নের যত অভিযোগ; প্রতিকার কি?

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল বিস্তৃত। শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার, উগ্র জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, এইডসের প্রাদুর্ভাব এসকল অপরাধপ্রবণতার পরও সরকারের পক্ষ থেকে আইন করে এসকল প্রতিষ্ঠান বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ছাত্রীকে জাপটে ধরে বাথরুমে নিয়ে গেলেন কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক। সম্প্রতি দেশের আঞ্চলিক একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় সংবাদের এমন শিরোনাম প্রত্যক্ষ করেছে আমার মত অনেকেই। এবং সেখানে অভ্যন্তরে সে শিক্ষক এই মাদ্রাসার ছাত্রীকে কি করতে পারেন, সেটি সহজেই অনুধাবন করা যায়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদপত্রের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, মহিলা মাদ্রাসাগুলোতে ধর্ষণের সংখ্যা পুরুষদের মাদ্রাসাগুলোতে ছেলে শিশু বলাৎকারের চেয়েও বেশি।

উপরের আলোচিত সংবাদের ধর্ষিতা মেয়েটি বোরখা, নিকাব, হিজাব, হাতমোজা সবকিছুই পড়েছিলেন। কিন্তু তারপরও সেই ধর্মীয় শিক্ষকের ধর্ম ইসলামের শিক্ষা, নবী মুহাম্মদের শিক্ষা, শরিয়াহ কোনোকিছুই মেয়েটিকে সেই ইসলামী ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। জান্নাতে মৃত্যুর পর ৭২ হুর সম্ভোগের যে ঐতিহাসিক উন্মাদনা, সেটি কিছু মুহূর্তের জন্য আল্লাহর পবিত্র নামে উজ্জীবিত হয়েছিল।

মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় হেফজখানার মত প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে ধর্ষণ ও বলাৎকার হয়, সেগুলোর বেশিরভাগেরই বিচার হয় না। এখানে ধর্ম ও এর অনুভূতি এমন ভাবে গ্রাস করেছে, যেখানে ইসলামের নামে এ ধরণের অপরাধকর্মের বৈধতা দেওয়া যায়।

এ নারী শিশুদের অভিভাবকরা কিসের লোভে এ নারীদের মাদ্রাসায় পাঠায় সেটি বুঝা বেশ কঠিন। ইসলাম, কোরান ও হাদিসের নামে যা আত্মস্থ করানো হয়, এর বাস্তবিক অর্থে চর্চা কি আদৌ আছে?

এ মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার যতটা না ধর্মজ্ঞান দেয় তারচেয়েও বেশি তৈরি করে উগ্র মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতা। ইসলাম সম্পর্কিত আজকে সারাবিশ্বে যে সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও মৌলবাদের বিষবাষ্প এর উৎপাদক এই সকল মাদ্রাসার মত ইসলামী হেরেমখানাগুলো। যেখানে অবৈতনিকভাবে ধর্ষণ ও বলাৎকার করা যায়।

এসব মাদ্রাসার ধর্মের মাওলানারা সমকামিতা মানেন না, কিছু নাবালক শিশুদের সাথে পায়ুকামিতা উপভোগ করেন, উন্মাদনা নেন ধর্ম ইসলামের নামে। দায়মুক্তি দেওয়া হয়, শরিয়াহ ও ধর্মের অনুভূতিকে ব্যবহার করে।

আজকের যারা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আগামীতে এরাই মৌলবাদী হয়ে বেড়ে উঠে। জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাই, হেজবুত তাহরিরের মত উগ্র মৌলবাদী সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হয়। যাদের জীবন হয়ে উঠে নিপীড়িত, গ্লানি, রুগ্ন ও ফ্যাকাশে। এরাই সেই সকল ধর্মের জিহাদীদের যৌনদাসী ও মুতা বিয়ের নামে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কামনার সঙ্গী হয়।

কিন্তু আমি যখন ঠিক এই সকল নারীদের অধিকারের পক্ষে, সচেতনতা ও ধর্মান্ধতার দেয়াল ভাঙার কথা বলছি, এমন অসংখ্য নারী আমাদেরকে ইসলামবিদ্বেষী, কাফের মুরতাদ বলে আর্তচিৎকার করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *