তৌহিদী জনতা: ধর্মীয় পরিচয়, রাজনীতি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা

ইসলাম ধর্ম ও অনুভূতি এমনই এক ধর্মানুভূতির আধ্যাত্মিক বেদনায় আক্রান্ত বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্ম এ নিয়ে ইসলামিস্ট ও সাধারণ মুসলমানদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিচয়ে দাঁড় করিয়েছে; তৌহিদী জনতা।

কোরআন, হাদিস, সিরাত, তাফসির থেকে যুক্তিপূর্ণ উদ্ধৃতি এখানে শ্রেণি ধর্ম অবমাননা হিসেবে অভিযোগের বিদ্বেষে দেখা হয়। কিন্তু এ দেশের যত না মানুষ মুসলমান, তার চেয়েও বেশি তৌহিদী।

এ পৃথিবীতে হাজার হাজার ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে এবং বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে কর্মকাণ্ডের কারণে এর অনুসারীদের। ইসলামের আবির্ভাব মাত্র চৌদ্দশত বছর আগে, যেখানে হিন্দু ধর্ম সাত হাজার বছরেরও প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস।

ধর্ম ইসলামের সূচনা হয়েছিল নবী মুহাম্মদের অর্থ, ক্ষমতা ও নারীর প্রতি আসক্তি থেকে। যেখানে ধর্মের নামে যুদ্ধবন্দিনী নারীদের প্রতি শারীরিক নির্যাতন, সম্ভ্রমহানি, অনিচ্ছা সত্ত্বেও যৌন পীড়ন এবং গণিমতের মাল হিসেবে বিক্রি অনুমোদিত হয়েছিল ধর্মের ছায়ায়। সেখানে কোরআন, নবী ও ইসলাম নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

তৌহিদী জনতা ইসলামের এমন একটি অংশ, যার বিস্তৃতি নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর দিন থেকেই সূত্রপাত হয়েছিল। ইসলামে ফিতনা ও ফ্যাসাদের পার্থক্য ক্ষীণ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এ ধর্মপাল মুসলমানেরা তৌহিদী জনতা। কিন্তু এরা কারা?

এরা সেই গোষ্ঠী, যারা ধর্ম ইসলামের কথিত নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর পর মিছিলে সমবেত হয়। গোসল দেওয়া যাবে না। গোসল দিলে নবীকে উলঙ্গ করতে হবে, কাপড় খুলতে হবে। এতে নবীর অবমাননা হবে।

আবু বকর ২৭ মাস শাসন করেছিল, যার পুরো সময়টাই তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কাটাতে হয়েছিল। তৌহিদী জনতা উগ্রতা দেখালেও কিছু ক্ষেত্রে সত্যের কাছেও বশ্যতা স্বীকার করে। এরাই প্রথম ইসলাম পরিত্যাগ করে। মুসাইলিমাকে ইসলাম ত্যাগ করে নবী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

ইসলামের খলিফা উমরকে হত্যা করেছিল এই তৌহিদী জনতা। খলিফা আলিকেও হত্যা করে এরাই। আবদুর রহমান নামে এক তৌহিদী আলীর ফজরের নামাজের সময় ছুরি চালিয়ে দেয়। সে ছিল ইসলামের প্রথম রাজনৈতিক দল খারেজি কাফেলার সদস্য। আজকের বাংলাদেশে তৌহিদী জনতার নামে হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম, হিজবুত তাহরীর, উলামা দলের মতো যেসব ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিকৃত যৌনাচার দেখা যায়, এরাই সেই খারেজিদের তৌহিদী জনতার অনুসারী। নবী মুহাম্মদের পত্নী আয়েশা, ইমাম হাসানের স্ত্রী আয়েশা—সকলেই কুপ্রস্তাব ও যৌন লালসার সম্মুখীন হয় এই তৌহিদী জনতার দ্বারাই।

আজকের বাংলাদেশে ধর্মের নামে যত ইসলামী সংগঠন, এরা সবাই সেই তৌহিদী জনতারই অংশ ও বিকৃত যৌনাচারী। এরাই ধর্ষক, বলাত্কারকারী ও ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী।

এরাই আজকের বাংলাদেশে ধর্মসমালোচনাকে অগ্রহণযোগ্য অস্ত্রে পরিণত করেছে। এদের যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

আজকের বাংলাদেশে এই তৌহিদীদের সভ্য সমাজে রুখে দিতে হবে। এ দেশ ধর্মের নয়, এ রাষ্ট্রও কোনো ধর্মের নয়। এ রাষ্ট্রে সকল বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *